শনিবার | ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রথম সপ্তাহে জলবায়ু সম্মেলনে: কথা বেশি, অর্থ সামান্য

প্রথম সপ্তাহে জলবায়ু সম্মেলনে: কথা বেশি, অর্থ সামান্য

প্রবাহ ডেস্ক : মিশরের শারম আল শাইখে সিনাই পর্বতমালার পাদদেশে ও লোহিত সাগরের তীরে চলছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপের ২৭তম আসর। ব্যাপক উত্তেজনা নিয়ে শুরু হওয়া এই আসরের প্রথম সপ্তাহ শেষ হয়েছে গত শনিবার।

রোববার বিরতি দিয়ে সোমবার থেকে আবারও শুরু হবে দ্বিতীয় সপ্তাহের আলোচনা ও দর কষাকষি। প্রশ্ন হলো, জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনায় এখন পর্যন্ত কী ঘটেছে এবং আমরা পরের সপ্তাহে কী আশা করতে পারি?

মিশরে শীর্ষ সম্মেলনটি একটি গভীর সতর্কবার্তা দিয়ে শুরু হয়েছিল। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গত সোমবার শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনে বিশ্ব নেতাদের বলেন, পৃথিবী নামের গ্রহটির জলবায়ু সংকট এক বিশৃঙ্খল পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে এবং এ থেকে ফেরার কোনো উপায় নেই।

শুরুর আগেই ইউএনএফসিসিসি এক রিপোর্টে বলেছে, কার্বন নির্গমন কমানোর যে লক্ষমাত্রা তা থেকে এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে দেশগুলো। সেখানে বলা হয়েছে, এখন যে অবস্থা তাতে শতাব্দী শেষে তাপমাত্রা শিল্পায়ন শুরুর যুগ থেকে এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রিতে বেঁধে রাখা কঠিন হবে। শুধু তাই নয়, তা আড়াই ডিগ্রিতে পৌঁছে যেতে পারে। অর্থাৎ, এখন যতটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে, তখন তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হবে।

কপের শুরুতেই এবার একটা সাফল্য মেলে। তা হলো- ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় যুক্ত হওয়া। অল্প কিছু অর্থও সেখানে যুক্ত হয়। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই নগণ্য।

গত বছর গ্লাসগো কপের আয়োজক দেশ যুক্তরাজ্য ও বর্তমান আয়োজক মিশরের করা যৌথ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০৩০ সাল নাগাদ চীন ছাড়া বাকি সব উন্নয়নশীল দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রায় দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হবে। সে হিসাবে এখনও যেসব অঙ্গীকার এসেছে তা নামমাত্র।

এদিকে সপ্তাহজুড়ে কপের ভেন্যুর বিভিন্ন স্থানজুড়ে ছোট ছোট বিক্ষোভ হয়েছে। বিশ্ব নেতারা চলে যাবার পর তা কিছুটা তীব্র ও রঙিন হয়। একেক দিনের থিম বা বিষয় একেক হওয়ায় প্রতিবাদকারীদের স্লোগানও সেভাবে বদলায়। তবে এবারই প্রথম তরুণদের জন্য একটি প্যাভিলিয়ান করা হয়।

তরুণরা এবারের কপেও খুবই সরব, যদিও তরুণদের আইকন গ্রেটা থুনবার্গ এবার কপে আসেননি।
পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক কার্বন নির্গমন করে যে দুইটি দেশ, সেই চীন ও যুক্তরাষ্ট্র গতবছর নিঃসরণ কমানোর জন্য আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু তাইওয়ান নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে চীন আলোচনা বন্ধ করে দেয়। বিশেষ করে ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের পর।

তবে কপে উপস্থিত চীনা ক্লাইমেট নেগোশিয়েটর জি জেনহুয়া আশ্বস্ত করেছেন তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ জলবায়ু দূত জন কেরির ‘কথা’ হচ্ছে। এছাড়াও নানা ঘটনার মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে কপের প্রথম সপ্তাহ। দ্বিতীয় সপ্তাহে সবার চোখ থাকবে অভিযোজন ও লস অ্যান্ড ড্যামেজের তহবিল নিয়ে কী হয় তা দেখার জন্য।


©2022 newsprobaha.com
Developed by- .:: SHUMANBD ::.